শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে শিল্প উৎপাদনে ধস, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি বোয়ালখালীতে এসএসসি ফলাফলে শীর্ষস্থানে সৈয়দপুর নুর কাশেম একাডেমি বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার ওমর বিন নুরুল আবছার এর কবর জিয়ারত প্রবাসীদের অবদানে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ: মক্কায় ডায়মন্ড সিমেন্টের মতবিনিময় সভায় -এনামুল হক এমপি ধোরলা মুক্তি সংঘে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজনীতি আমার কাছে প্রতিহিংসার নয়, মানুষের সেবার একটি দায়িত্ব : ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়ে পুনরায় কটুক্তি করা হলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চলবে : ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আপনাদের সহযোগিতা পেলে অতি বৃষ্টিতে আমুচিয়াবাসীর কষ্ট লাগবে দ্রুত ব্যবস্থা নেব :চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনের নিজ উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের সিয়াম

পাহাড়ে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে উৎপাদিত কপি গাছের পাতার একটি অংশ।   

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

মনজুরুল আলম মনজু,মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক:

কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, অর্থায়ন করেছে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প। বাস্তবায়নে : পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বারি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। আমি আশাবাদী এই দেশ অচিরেই কফিতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। অনেকে কফিকে পপি বানিয়ে ভুলকরে ফেলে । পপি থেকে একপ্রকার ভয়াবহ মাদক উৎপন্ন হয় যার নাম হেরোইন। অনেকে দেশে চায়ের পরিবর্তে কফি পান করে থাকেন। তবে দুইটি ভিন্ন স্বাদের ভিন্ন আমেজের। বিদেশ থেকে আনতে হয় বলে খরচটা একটু বেশি। আপনার ভাবনার মাঝে এক কাপ কফি হয়ে উঠুক শান্তির উপাদান।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কফি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। অর্থকরী ফসল হিসেবে কফির খুব কদর রয়েছে। আমাদের দেশেও এখন কফির চাহিদা ব্যাপক। চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ কফি আমদানি করা হয়। অথচ আমাদের দেশেও কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। চেষ্টা করলে বর্তমান আমদানির ৫০ ভাগেরও বেশি কফি আমরা নিজেদের দেশ থেকেই পেতে পারি। দেশে কফি চাষ এবং গবেষণার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কফি চাষ গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ড. মো. আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন।
কফি চাষ গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে ভালো মানের কফি চাষ সম্ভব। আর এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর কফি চাষ সম্ভব। সমতল অঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলায়ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড়ি এলাকাসহ সমতলের বিভিন্ন অঞ্চলে কফি চাষ শুরু হয়েছে বলেও ড. মো. আলতাফ হোসেন জানান।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০১ সালে বিদেশ থেকে কিছু কফির গাছ আমদানি করে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়। অল্প দিনেই কফি চাষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এর পর থেকেই তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কফি চাষ শুরু হয়।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো.আলতাফ হোসেন ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাপ্তাই উপজেলার পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীতে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৩ হেক্টর জমিতে কফির বিন উৎপন্ন হয়েছে ৫৫ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। বর্তমানে ড. আলতাফ হোসেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কফির চাষ বৃদ্ধিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ড. আলতাফ হোসেন পাহাড়ি এলাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ভ্রমণ করছেন।
তিনি বলেন, পাহাড় এবং সমতল সব স্থানেই কফি চাষ করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি উঁচু ও মধ্য উঁচু জমিতে সফলভাবে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু কফি চাষের অনুকূলে হওয়ায় ভালো ও উন্নত স্বাদের ও ঘ্রানের কফি চাষ এখানে সম্ভব। কফি চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। অ্যারাবিকা কফি চাষের জন্য ১৫-২৪ ডিগ্রি এবং রোবাস্টা জাতের কফির জন্য ২৪-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা প্রয়োজন, যা আমাদের দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে। কফি চাষ করে কৃষকসহ যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারবেন। দেশব্যাপী কফি চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষক অথবা সাধারণ জনগণ কফি চাষে আগ্রহী হলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে কফি গাছের চারা এবং সার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে বলে জানান প্রকল্প সমন্বয়কারী।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প এলাকা কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালী এবং খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কফি বাগানে মাত্র তিন বছর আগে রোপিত শত শত গাছে প্রচুর পরিমাণে থোকায় থোকায় কফি ধরে আছে। জানা গেছে, একটি গাছে তিন কেজি পর্যন্ত কফি হতে পারে। কফি চাষে আগ্রহীদের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন সহযোগিতা গ্রহণ করার জন্য প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আলতাফ হোসেন আহ্বান জানান।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD